Translate

শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৬

অফুরান শান্তিনিকেতন

কিছু স্মৃতি রয়ে গেছে
আনাচে-কানাচে
অমলতাস-রঙা রোদ্দুরের কাছে,
পূর্বপল্লী পথে নিরিবিলি ছায়াদের ভিড়ে
বিকেল গড়িয়ে যাওয়া খোয়াই-এর ভাজে
ডিয়ার পার্কের বাঁকে
একা চুপ গাছটির কাছে...

কিছু স্মৃতি উড়ে গেছে
বকের পাখায়
কত কথা খসে গেছে নাট্যঘরে
পাতাঝরা গুলঞ্চতলায়
অনুক্ত কত ব্যথা হিম ভোরে ঘাসের কলমে
অলৌকিক মোতি হয়ে ঝরে
আনমনা কত স্রোত বয়ে গেছে
তারাভরা রাত নিয়ে, সোনাঝুরি পথের কিনারে

তার পরও রয়ে গেছে
ছাতিমের ঘ্রাণে বুঁদ বেপরোয়া স্মৃতি
সাইকেল বেলা শেষে ঘরে ফেরা বেল
গ্রিলের এপারে এসে একবার আঙুলে-আঙুল বিনিমিয়ে
সমস্ত সন্ধ্যের কুণ্ঠিত  নীরবতা মুহুর্তে হৃদয়ে বাঙ্ময়...
তিনপাহাড়ের নিচে জমে ওঠা জোনাকির রাত
মন্দিরের আলোমাখা আশ্চর্য সকাল...

...
স্মৃতি-বিস্মৃতির বাঁকে পথ চলা ফুরাবে যখন
আমি জানি তখনও অফুরান
আমার বুকের মাঝে বয়ে যাবে শান্তিনিকেতন।স

ফেরা


অনিকেত,
মৃত্যু ঘেরা খাদ ছুঁয়ে  এলে
কুয়াশায় মাখামাখি ভাঙাচোরা মেঠো আল
যাদের অগ্রাহ্য করেছি, এতাবৎকাল
সমস্ত-ই বড় মায়াময় মনে হয়।

কখনও দৈবাৎ, পূর্বজন্মে ফেলে আসা
ভিটের দুয়ারে এসে দাঁড়ালে দেখবে
শুকনো পাতার স্তূপে তোমার  ছোঁয়ায়
কেমন নূপুরধ্বনি রণিত...

কৃষ্ণপক্ষ যাপন-ই জানে জোৎস্নার যথার্থ আস্বাদ।
অন্যথায়...
... থাক! বুঝবে না সেকথা তুমি-ও)

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩

তোমাকে ভেবে...


তোমাকে ভেবে...

আকাশ তখন অনেক জ্যোৎস্না মাখা, একা বুঝি তাই মেঘের পাহাড় বেয়ে

একগাছা দড়ি সম্বল করে ছুঁতে চেয়েছিলে চাঁদের বুকের ক্ষত

 পিছে রয়ে গেল না-মেলা ছন্দ, এলোমেলো খাতা,একমুঠো অভিমান

এত অসময়ে, এভাবেই কি ...দূরে সরে যেতে হয়?



উঠোনে এখন পায়ে পায়ে টুপটাপ বৃষ্টি ঘনায়

টেবিলের কোণে চুপ হয়ে থাকে  মুখ খোলা পেন

নিভে যাওয়া সিগারেট, ... কেঁপে কেঁপে উঠে জ্বলে আর নেভে

নির্বাক মুঠোফোন, ইশারা বোঝার কেউ নেই আর আজ!



কত শ্রান্তি জমা হলে পরে, এভাবেই নিশিডাকে
সাড়া দেওয়া যায় এক লহমায়,চেনা ঘর-দোর শিউলিবাতাস ভুলে?
আলপনা  মাখা উঠোন পেরিয়ে কোজাগরী চাঁদ ছুঁতে
তুলে নেওয়া যায় জন্ম-নোঙর আনমনা ঝটকায়?



কে বলতে পারে, কখন কিভাবে কার, বুকের পাঁজরে
জমে-জমে ওঠে, হিম-হেমন্ত রাত! ক্ষুধিত কুহেলি
আগ্রাসী ডানা মেলে, চেনা মুখ সব মুছে দিয়ে গেলে
বেভুল পথের  ঠিকানারা হয়  অতলগর্ভ খাদ...

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

শেষ চিঠি ...

চলে যাব, যুগান্তের বনবাস শেষে  , এই মিলন ক্ষনিকের , জানি।


তবু মাটির গন্ধ, ঘাসেদের নরম সবুজ গান বড় মায়ায় বেঁধে

নিতে চায়। এ পথ আমার নয় , সময়ের স্রোত অনেক অনেক আগে

নিপুণ নির্ম্মমতায় কুরে নিয়ে গেছে আমার মাধবীতলা। এখন 

হু হু বাতাসে দোল খায় আশ্র্য়হীন শিকড় , আর অপেক্ষা করে

শেষ ভাঙনের। তবু তো অবুঝ কুড়ি পাখা মেলে...  বিষণ্ণ বাতাসে

একে যেতে চায়, ভালোবাসা রঙ...  একান্ত প্রহরে।

কিছু চাইবার নেই আর। আনিবার্য খরবেগে বয়ে চলবার আগে

যদি, ফেলে আসা বালুচরে একটি রক্তসন্ধ্যা গায়ে মেখে

পাশাপাশি কিছু চলছাপে লিখে যাওয়া যেত না হওয়া কবিতা 

তবে বড় অনায়াসে পাড়ি জমাতাম অগস্ত্য যাত্রায়!

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৩

না মেলা অঙ্কের কথা ...




তুই হাত ছোঁয়াতেই, উত্তাল লাভা স্রোত,
হৃদয় তখন, হাজার বছরের শীতঘুম ভেঙে ওঠা
মাতাল ভল্‌ক্যানো!
এতো আগুন ছিল, বুঝিনি আগে!
আমার সবুজ বনানী,
খড়-কুটো দিয়ে বাঁধা ছোট নীড় খানি...
সব বুঝি এই চুরমার!

তোর জন্য গত শতাব্দীতে
কান্না মেখে, আগুনের পথে, হেঁটে গেছি
জন্মভোর। অন্ধরাতে একা!

আজ এখনও তোর ডাকে
পাড়ি দিতে পারি
কালাহারি উষর প্রান্তর,
নরম শ্যামল ছায়া ফেলে!


আশ্চর্য গণিত শেষে
পড়ে আছে এক মায়াডোর!
ক্ষীণবল তবুও অমোঘ
প্রত্যয়ে স্তব্ধ করে রাখে
যাবতীয় অগ্নুদ্‌গার!
তাই এখনও সুবাতাস বয়ে চলে
অঙ্গনে আমার!

... বুঝি বড় দেরী হয়ে গেছে।
যোগ – বিয়োগের অংকে
বেভুলে, ফুটে ওঠা জ্বালা পোড়া দাগ,
হাসি আর গানে ঢেকে রাখি।

হিসেবের খাতার পেছনে
রয়ে যায় কিশোর বেলার
এলোমেলো কিছু চলছাপ!


শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩

রাতকথা



অনেক নৈঃশব্দ জমে, হে রাত!

অন্ধকারে মিশে যাওয়া ঘাসের উপরে

টুপটাপ ঝরে পড়ে ভালোবাসা।


সাক্ষী থাকে অপলক তারা

কুয়াশার নরম চাদর!

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

বিচ্ছেদ

বিচ্ছেদ

আমাদের মাঝে স্তুপীভূত অসংখ্য হিম, 

জমতে জমতে অনিঃশেষ কুয়াশার ঝাঁক জন্ম দেয়!

ওরই মাঝে এক ফালি মিটমিটে চাঁদ, খুঁজে ফেরে অলৌকিক সেতু,

 যে মেটাবে যোজন দুস্তর !

ঝুলন্ত সে পথ ঘিরে গর্জে চলে উত্তাল আঁধার,

ওপারে অরণ্যভূমি শ্বাপদ সংকুল।

এপারে নির্মম চড়াই অহংকারী মাথা তুলে বিদ্ধ করে আমার আকাশ, 

অঝোর যন্ত্রণা তোমার নিশ্চুপ অতলে ঝরে পড়ে... পড়তে থাকে ...

দুবাহুর আলিঙ্গনে অফুরান বিচ্ছেদ যাপনসহ্যাতীত হলে পরে 

প্রাচীন পাহাড়ে ধস নামে ... ...