Translate

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬

আর্তি


May 17, 2014 at 8:21am
             

পায়ে পায়ে সরে এসে
দঁড়িয়েছি ঢেউ-এর টীলায়
আমার দিগন্ত ছুঁয়ে সূর্য ডুব দেয়
নোনা অন্ধকারে।
গাঢ়- গাঢ় – গূঢ় তমিস্রায়
শ্রান্ত চাঁদ লবণ ছড়ায় রাতভোর,
হিমঘরে নষ্টঘ্রাণ তবু।
বিষণ্ণ শব বুকে অস্পষ্ট সাগরে
খুঁজে ফিরি ফেলে আসা বটের শিকড়,
পরিচিত উষ্ণতার বাস।

সমুদ্র সময় শেষে
খসে পড়ে মাংস... ভালোবাসা...
অবশিষ্ট নির্জন কঙ্কাল
ঢেঊ ভেঙে ভেঙে ভেঙে খোঁজে সূর্যোদয়।   

প্রতিশ্রুতি...


May 15, 2014 at 11:42pm
যাবার সময় হল , শুনতে পাচ্ছ দূরে ঘণ্টা বাজছে, বেজেই চলছে...
এখনও বাকী রয়ে গেল বহু কিছু, সুপুরির ফুল গুলো এখনও
ফল হয়ে ওঠে নি, পেছনে পাচিলের গায়ের ফাটল সারানো
হয়নি আজো, একটু নজর রেখ ... সুযোগ পেলেই ঘেয়ো নেড়িটা নাহলে...

এক পশলা ভালোবাসা ঝরিয়ে, আকাশ এখন মেঘের ডানায়
ছুঁয়ে আসছে মহাজাগতিক নিল, কি খুশি , কি খুশি!
তার হাসির ছোঁয়াচ লেগে, ঝিকমিকিয়ে উঠছে ভিজে মাঠের সবুজ।
ওই দেখ নাম না জানা জাদুকর , আমার জন্যে পেতে দিয়েছে
সাতরঙা গালচে, আর কতটুকুই বা...  

                                          ...জানো এই মুহুর্তে সব;
সব কিছু বড্ড বেশী ভালো লাগছে। কি এক অদ্ভুত মায়া ছড়িয়ে
যাচ্ছে ধমনী প্রবাহে, আজকের বাতাসে যেন আশ্চর্য এক ঘ্রাণ
ঠিক বোঝাতে পারব না, পারা কি ছাই নিজেও কি বুঝতে পারছি...
একবার মনে হচ্ছে রজনীগন্ধা , একবার নেবুফুল... আর বুঝেই বা করব কি?
আর তো মোটে... সে যাকগে, যেতে যখন হবেই সে কথায় আর কাজ নেই।

তার চেয়ে চল এক বার , শেষ বারের মত-ই হয়তো বা
ছুঁয়ে আসি, ভরন্ত কোপাই। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে টা-টা করে আসি
ছুটে যাওয়া ডাউন ট্রেনের অচেনা মানুষ জনকে। ওরা তো জানে না
আসলে এ ইশারা নিজেকেই করা। শুধু তুমি সেই মুহুর্তে আর একটু
শক্ত করে চেপে ধরবে আমার মুঠি। বাকী তো সব... কি আর করা,
এই ক দিনে কজন কে আর চিনব বলো, আমাকেই বা চিনল কজন!
সমস্ত হিসেবের খাতা পুড়িয়ে এসেছি... আজ ক্যামেরাও আনিনি ।
আমার তো দরকার নেই, আর আমি জানি পৃথিবীর সমস্ত ইরেজার
মিলেও, তোমার চোখ থেকে এই সন্ধ্যার একটি বিন্দুও ফিকে করতে পারবে না।

সময় হল, আঃ যদি অন্য বিকেলের মত বলতে পারতাম, চলো এবার
ফেরা যাক। আজ প্রথম ও শেষ বারের মত বুঝলাম ফেরার আস্বাদ!
বেশ তাহলে, একবার চোখে চোখ তো রাখ ... ছি অমন করতে আছে,
একটু হাসো, লক্ষ্মীটি! সেই প্রথম দিনের মত তোমার চোখে আমি আর একবার
মানস সরোবরের শান্ত ছায়া দেখে নিতে চাই, যা দেখা মাত্রই বুকের মাঝে
ফুটে উঠে ছিল সুদুর্লভ ব্রহ্মকমলের ঝাঁক।

আর কিছুক্ষণ বাদে আকাশে অস্তরাগ ভেদ করে ভেসে আসবে শান্ত আজান
আর গম্ভীর শাঁখ। মনে করে আমার প্রদীপটাও জ্বালিয়ে দিও...
সলতে পাকিয়ে রেখে গেছি। মনে করে ভাত বেড়ে খেও... আর ওই
ঘেয়ো নেড়িটাকেও আমার দুমুঠো দিয়ে এস। অন্ততঃ ও তো বাঁচুক...
কি বল। জানি এখন তোমার দুনিয়া সাদা-কালো সেলুলয়েড... তবু বলি
ভালো থেকো, ভালোবেসো, দেখো বৃষ্টি হয়ে তোমার ধূসর আমার
সবুজে ভরে দেব। কথা দিলাম।


...'আমায় নিয়ে যাবি কে রে 
দিন শেষের শেষ খেয়ায়'

যদি


May 31, 2014 at 10:45pm
একটা স্বপ্ন আঁকি                  
হাজার হাজার হাতে,
যদি তুমি ঠিকঠাক
তুলি এনে দিতে পারো!

একটা জীবন হাঁটি
মিছিলের পায়ে পায়ে
সামনে আশার যদি
জোনাক পাখনা মেলো।

একটা নদীর ছবি
এঁকে নেব দেশময়
মনে মন জুড়ে জুড়ে
গেঁথে রাখ যদি মালা।

একটি হৃদ-কমল
ফুটবে আকাশ ব্যেপে
ইচ্ছে ডানায় যদি
উড়ানেরা কথা কয়!

ভালোবাসো যদি তবে
নোনামাটি বাদা বনে
সবুজ ধানের শিষ
দুলবে কবিতা হয়ে...

অন্ধ পথে আজও
বিশ্বাসে হাত যদি
বাড়াও দেখবে তবে
উষ্ণতা যাবে ছুঁয়ে!

নিশ্চয়তার কাঁথা
ছুড়ে ফেলে যদি পথে
একবার নেমে চাও
পিছুটান মোছা চোখে

দেখবে ভবিষ্যৎ
অধীর প্রহর গুনে
অপেক্ষা করে আছে
শুধু আমাদের তরে।।

আষাঢ় - স্মৃতি


এমন করে ঝরলে পরে মন মাতাল,স্বভাবতই টলোমলো
প্রান্তিক প্রান্তর পেরিয়ে আরও দূর তালতোড় গাঁয়ে...
গাঁয়ের কিনারে হেঁটে যায়। যেখানে কোপাই নীচে,
উপরে ঝমঝম রেল, দু হাত দূর দিয়ে ছুঁতে যায়
নিশ্চিন্তিপুর ...

বহুদিন দহনের পর অকস্মাৎ, মেঘলা গানে গানে
আজকে যেমন বিকেল মায়াবী জলছবি, বাতাসে স্নানের ঘ্রাণ,
এসব মূহূর্তি শিশিরের মত লহমার, তবু জানি গতানুগতিক
অন্ধকারে এলোমেলো এক-আধ পশলা জোনাকের ঝাড়বাতি
জীবনের আলপনা আঁকে ...

মনে পড়ে প্রথম আষাঢ়!

অমোঘ বৃষ্টি


June 18, 2014 at 5:39pm
অনেক দিনের পরে আবার আমার আকাশ জুড়ে অঝোর
বৃষ্টি এলে
জীর্ন ধুসর পথ ভাসিয়ে  রাঙ্গা স্রোতের খেলার ছলে
বৃষ্টি এলে
ভাঙ্গা চালের ফাঁক-ফোঁকরে, ফাটা মাটির ভাঁজে নরম
ছোঁয়ার মত,
একলা দুপুর দাহ ঢেকে প্রিয় আঁচল গন্ধ মেখে
তোমার আসা
বৃষ্টি আমার...
পায়ের তালে শিউরে ওঠে, আমূল স্নাত যূথির কলি
ঝাউয়ের খোঁপা সেজে ওঠে জল-মাণিকে তুমি ছুঁলে
দগ্ধ প্রাণে সোহাগ ঢেলে যুগান্তরের পারে মাতাল
বৃষ্টি এলে...
ভিজলো হৃদয় ফুটিফাটা, ধারা স্নানে হিসেব খাতার
যাপন গণিত ধুয়ে মুছে, এলো চুলের ঢালে ঢালে উতল প্রথম
প্রেমের মত
বৃষ্টি এলে...
গলছে আমার দেওয়াল গণ্ডি, ভাসছে চেনা ছক,
রোজনামচার পাতা এবার খেয়াল নৌকো হোক!
দাঁড়ি মাঝি চাই না যে আর, বে-হাল চলার নেশায় সওয়ার
ডুবব জেনে পাড়ি এবার শিকল খোলা চেনা দুয়ার
পেরিয়ে ভেজা আঙুল ছোঁয়া দুরুদুরু বুকে পাগল
বৃষ্টি ঢেলে...
রামগিরির বার্তা মেঘে, জীবনভোরের কান্না সুখে,
আপন প্রেমে দ্রব করে আমায় নিলে,
মধ্যদিনের তপ্ত বুকে, ছায়াময়ী সন্ধ্যা এঁকে
সকল চাওয়া মিটিয়ে,
আদিম বৃষ্টি এলে!

শান্তিনিকেতনের ডাক...


June 21, 2014 at 10:04am
আষাঢ় মেঘ ঢেকেছে রৌদ্র মাঠ
সোনাঝুরি চল তুমুল ভিজব বলে
দেখবি কেমন রাঙ্গা নদী বয়
শালবনে পথ ভুলে।

ঝমঝম তালে এক ছুটে প্রান্তিক
ওভারব্রিজের নিচে ঝাপসা রেল
সময় খাতার হিসেব ভাসিয়ে আয়
ভাগ করেনি মায়াবি এক বিকেল!

জল ছপছপ গোয়ালপাড়ার পথে
কোপাই সেতুর পারে এসে চুপচাপ
দেখ ঘোলা জল বইছে নিজের চালে
অসময় স্রোতে সবুজ ভাসিয়ে বুকে!

চুপচুপে সাঁঝে আশ্রম মাঠ ঘেঁষে
দেখি চ কেমন খুশিতে ঘাসেরা আজ
মেঘলা সাজে মাতোয়ারা গান গায়
শুনতে জানলে ভোলা যায় সব কাজ!

আবছা আঁধার ঘণ্টা তলার বেদী
অঝোর ধারায় গলে গলে পড়ে মন
অনাড়ম্বর শান্তির নিকেতন
দেখতে পাবি এখন আসিস যদি।

সবুজ বিশ্বাস ...


June 23, 2014 at 1:27am
তুমি এমনি করে আগুন হয়ে, 
জ্বালিয়ে যাও আকাশ-জীবন
আমার আবাদ পুড়ে ফুটিফাটা

অন্যমনে বুনে রাখা
সবুজ মনের গালচে জুড়ে
বেড়ে ওঠে অসংখ্য চোরকাঁটা...

ফসল কোথায় ধূ-ধূ যাপন
তোমার - আমার মধ্য-স্রোতে
ছড়িয়ে আছে দীর্ঘ বালুচর

সেই যে নদী স্বপ্ন মাখা
পথ ভুলে আজ দিশাহারা 
ভস্ম-ছাই ওর-ও বাড়িঘর...

বাতাসে বিষ জ্বলে পাঁজর
তারও পরে কণ্ঠ চিরে
উৎসারিত গানের তালে তালে

মেঘ জমবে হৃদ-কমলে
ফোঁটায় ফোঁটায় ভালোবাসা
ফুল হয়ে হাসবে মরা ডালে! 

সবুজ বেশ্বাস