Translate

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬

ইন্ধন... ...

স্রোত-ও কখনো-সখনো দৈনন্দিন ইন্ধন বয়ে আনে..
নদীর নির্জন চরে ক্লান্ত চিতা জলে ভেসে গেলে
কোন এক নামহীন কুলে সেই সব যাপিত প্রাণের 
দহনের সহচর অর্ধদগ্ধ কিছু কাঠে... ভাঙ্গা কুঁড়েঘরে
দিনশেষে চমৎকার ভাতের আঘ্রাণ...
উদোম শিশুকে ঘরমুখো করে।

এভাবেই স্রোত 
কখনো কখনো সেতু বাঁধে ...  এক মুঠো 
অস্থি অবশেষ জুড়ে যায়  পরিত্রৃপ্ত গ্রাসে...
যে জীবন হারিয়েছে বাসা, তাই যেন ফ্যানের সুবাসে
থিতু হয়... আধো অন্ধকারে নামহীন ঝুপড়ির
আনাচে কানাচে...  

ভালোবাসা বেপরোয়া ঝাঁপ দেয়, মৃত্যু নদীর খরশান ফাঁদ
এড়িয়ে ... বারবার ... অনায়াস ফিরে ফিরে আসে...
ধুলোপায়ে, গলির গোলোক ধাঁধা ভেঙে চেনা চৌহদ্দির মাঝে, 
নুনে-ভাতে, ক্লান্ত রাতে ... প্রিয় নারীর ওম মেখে...
নিল নিঃসাড় হিমে জীবনের ইন্ধন জ্বালে...

ভূমিকম্পের প্রতি ... ...

April 25, 2015 at 3:32pm
আর একটু জোরে, বিষাক্ত শিকড়
ছড়িয়েছে অনেক গভীরে,
দু একদোলনে উৎখাত হবার নয় আজ।
হে সর্বংসহা আর কতকাল
মেনে যাবে মুখ বুজে নির্মম নির্লজ্জ
বিনাশন ... রক্ত হোরী খেলা।
দ্বীধা হও বসুমাতা, ভাঙো ভাঙো ভাঙো
প্রলয় দোলায় পুঞ্জীকৃত পাপেরপ্রাসাদ,
অন্ধ অহমিকা রাশি।
অট্টহাসে কাঁপুক ভুবন
মুক্ত কর ধ্বংস সাজে, তাণ্ডবলীলায়!
অ-সভ্যতা ভগ্ন স্তূপ উদ্ভিন্ন করে
প্রলয়ের পরবর্তী ভোরে
কোরক মেলুক দুঃসাহসী রক্তকরবী।

চরৈবেতি

তবুও বিশ্বাস...

May 17, 2014 at 12:10am
চলে যাই, চলে যেতে হয় ...অনেক সময়! 
হাতের মুঠোয় তখন নষ্ট চাঁদ গুনগুণ সুরে গেয়ে চলে
প্রপিতামহীর হারানো নক্সী কাঁথার অলীক গাথা

চলে যাই, চলে যেতে হয়... অনেক সময়
বন্ধ্যা পথ জানার পরেও, স্বপ্ন বীজ রোপণ
অনিবার্য হয়ে ওঠে

এভাবেই যেতে যেতে যেতে 
সন্ত্রস্ত সন্ধ্যার বন্ধ চোখে চোখ রেখে
পড়ে গেছি অজস্র কান্না

এভাবেই যেতে যেতে যেতে
মৃত্যুলগ্ন রাতের জঠরে নিঃশব্দ চিৎকারে
প্রতিবাদ পরিপাক হতে দেখবার পরেও 

চলে যাই, চলে যাব... অনন্ত সময়
কারন আমারই হাতে একদিন
মিলে যাবে হাজার শপথ

এভাবেই পায়ে পায়ে পায়ে
বেড়ে যাবে পথ, রক্ত-বদ্ধ গর্ভবাস শেষে
উদিত হবেই জাতক 

তাই চলি, তাই চলে যেতে হয়, তাই চলে যাব বারবার
জন্ম থেকে জন্মান্তর জুড়ে
চরৈবেতি সাধনা আমার... 

একটা বৃষ্টির কবিতা


May 27, 2014 at 11:13am
একটা বৃষ্টির কবিতাএকটা বৃষ্টির কবিতা







একটা বৃষ্টির কবিতা হয়ে যাক
ধূ–ধূ মাঠ চিরে ওঠা ইট-কাঠ-কংক্রিট
মেঘলা ক্যনভাসে হঠাৎ যখন জলছবি...

একটা বৃষ্টির কবিতা বাজুক
ঘাস ওড়নায় টলটলে মুক্তা জন্মক্ষণে
চুমুকে চুমুকে কিছু উষ্ণতা মাখা
পেয়ালা ঠোঁট ছুঁয়ে আলতো
ইশারা দিলে...

একটা বৃষ্টির কবিতা... ... ...
ফোঁটায় ফোঁটায় ছুঁয়ে দিক আমাদের
তপ্ত উঠোন! লু বাতাস স্মৃতি ভুলে
হাট করা জানালায়
ভিজে আসা শালিক যুগল
ডানার ঝাপটে একমুঠো খুশি
দশ ফুট বাই বারো ফুটে
এলোমেলো ছড়াবার পর... ...
সমস্ত গুমোট ভুলে আঙুলে-আঙুল
বৃষ্টির কবিতা এঁকে যাক!

আর্তি


May 17, 2014 at 8:21am
             

পায়ে পায়ে সরে এসে
দঁড়িয়েছি ঢেউ-এর টীলায়
আমার দিগন্ত ছুঁয়ে সূর্য ডুব দেয়
নোনা অন্ধকারে।
গাঢ়- গাঢ় – গূঢ় তমিস্রায়
শ্রান্ত চাঁদ লবণ ছড়ায় রাতভোর,
হিমঘরে নষ্টঘ্রাণ তবু।
বিষণ্ণ শব বুকে অস্পষ্ট সাগরে
খুঁজে ফিরি ফেলে আসা বটের শিকড়,
পরিচিত উষ্ণতার বাস।

সমুদ্র সময় শেষে
খসে পড়ে মাংস... ভালোবাসা...
অবশিষ্ট নির্জন কঙ্কাল
ঢেঊ ভেঙে ভেঙে ভেঙে খোঁজে সূর্যোদয়।   

প্রতিশ্রুতি...


May 15, 2014 at 11:42pm
যাবার সময় হল , শুনতে পাচ্ছ দূরে ঘণ্টা বাজছে, বেজেই চলছে...
এখনও বাকী রয়ে গেল বহু কিছু, সুপুরির ফুল গুলো এখনও
ফল হয়ে ওঠে নি, পেছনে পাচিলের গায়ের ফাটল সারানো
হয়নি আজো, একটু নজর রেখ ... সুযোগ পেলেই ঘেয়ো নেড়িটা নাহলে...

এক পশলা ভালোবাসা ঝরিয়ে, আকাশ এখন মেঘের ডানায়
ছুঁয়ে আসছে মহাজাগতিক নিল, কি খুশি , কি খুশি!
তার হাসির ছোঁয়াচ লেগে, ঝিকমিকিয়ে উঠছে ভিজে মাঠের সবুজ।
ওই দেখ নাম না জানা জাদুকর , আমার জন্যে পেতে দিয়েছে
সাতরঙা গালচে, আর কতটুকুই বা...  

                                          ...জানো এই মুহুর্তে সব;
সব কিছু বড্ড বেশী ভালো লাগছে। কি এক অদ্ভুত মায়া ছড়িয়ে
যাচ্ছে ধমনী প্রবাহে, আজকের বাতাসে যেন আশ্চর্য এক ঘ্রাণ
ঠিক বোঝাতে পারব না, পারা কি ছাই নিজেও কি বুঝতে পারছি...
একবার মনে হচ্ছে রজনীগন্ধা , একবার নেবুফুল... আর বুঝেই বা করব কি?
আর তো মোটে... সে যাকগে, যেতে যখন হবেই সে কথায় আর কাজ নেই।

তার চেয়ে চল এক বার , শেষ বারের মত-ই হয়তো বা
ছুঁয়ে আসি, ভরন্ত কোপাই। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে টা-টা করে আসি
ছুটে যাওয়া ডাউন ট্রেনের অচেনা মানুষ জনকে। ওরা তো জানে না
আসলে এ ইশারা নিজেকেই করা। শুধু তুমি সেই মুহুর্তে আর একটু
শক্ত করে চেপে ধরবে আমার মুঠি। বাকী তো সব... কি আর করা,
এই ক দিনে কজন কে আর চিনব বলো, আমাকেই বা চিনল কজন!
সমস্ত হিসেবের খাতা পুড়িয়ে এসেছি... আজ ক্যামেরাও আনিনি ।
আমার তো দরকার নেই, আর আমি জানি পৃথিবীর সমস্ত ইরেজার
মিলেও, তোমার চোখ থেকে এই সন্ধ্যার একটি বিন্দুও ফিকে করতে পারবে না।

সময় হল, আঃ যদি অন্য বিকেলের মত বলতে পারতাম, চলো এবার
ফেরা যাক। আজ প্রথম ও শেষ বারের মত বুঝলাম ফেরার আস্বাদ!
বেশ তাহলে, একবার চোখে চোখ তো রাখ ... ছি অমন করতে আছে,
একটু হাসো, লক্ষ্মীটি! সেই প্রথম দিনের মত তোমার চোখে আমি আর একবার
মানস সরোবরের শান্ত ছায়া দেখে নিতে চাই, যা দেখা মাত্রই বুকের মাঝে
ফুটে উঠে ছিল সুদুর্লভ ব্রহ্মকমলের ঝাঁক।

আর কিছুক্ষণ বাদে আকাশে অস্তরাগ ভেদ করে ভেসে আসবে শান্ত আজান
আর গম্ভীর শাঁখ। মনে করে আমার প্রদীপটাও জ্বালিয়ে দিও...
সলতে পাকিয়ে রেখে গেছি। মনে করে ভাত বেড়ে খেও... আর ওই
ঘেয়ো নেড়িটাকেও আমার দুমুঠো দিয়ে এস। অন্ততঃ ও তো বাঁচুক...
কি বল। জানি এখন তোমার দুনিয়া সাদা-কালো সেলুলয়েড... তবু বলি
ভালো থেকো, ভালোবেসো, দেখো বৃষ্টি হয়ে তোমার ধূসর আমার
সবুজে ভরে দেব। কথা দিলাম।


...'আমায় নিয়ে যাবি কে রে 
দিন শেষের শেষ খেয়ায়'

যদি


May 31, 2014 at 10:45pm
একটা স্বপ্ন আঁকি                  
হাজার হাজার হাতে,
যদি তুমি ঠিকঠাক
তুলি এনে দিতে পারো!

একটা জীবন হাঁটি
মিছিলের পায়ে পায়ে
সামনে আশার যদি
জোনাক পাখনা মেলো।

একটা নদীর ছবি
এঁকে নেব দেশময়
মনে মন জুড়ে জুড়ে
গেঁথে রাখ যদি মালা।

একটি হৃদ-কমল
ফুটবে আকাশ ব্যেপে
ইচ্ছে ডানায় যদি
উড়ানেরা কথা কয়!

ভালোবাসো যদি তবে
নোনামাটি বাদা বনে
সবুজ ধানের শিষ
দুলবে কবিতা হয়ে...

অন্ধ পথে আজও
বিশ্বাসে হাত যদি
বাড়াও দেখবে তবে
উষ্ণতা যাবে ছুঁয়ে!

নিশ্চয়তার কাঁথা
ছুড়ে ফেলে যদি পথে
একবার নেমে চাও
পিছুটান মোছা চোখে

দেখবে ভবিষ্যৎ
অধীর প্রহর গুনে
অপেক্ষা করে আছে
শুধু আমাদের তরে।।